Academy

সিফাত একজন কৃষক। তার দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় কন্যাটি দেখতে হুবহু বাবার মতো এবং ছোট কন্যাটির চুল, গায়ের রং বাবার মতো হলেও দেখতে মায়ের মতো। সম্প্রতি তার আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়াতে সে তার স্ত্রীর উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে সে জানতে পারে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারনে তার স্ত্রীর কোন ভূমিকা নেই।

Created: 1 year ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago
Ans :

যে প্রক্রিয়ায় একটি অণু (DNA) থেকে অনুরূপ দুটি নতুন অণুর (DNA) সৃষ্টি হয় তাকে অনুলিপন (DNA) অনুলিপন বলে। এই প্রক্রিয়াটি DNA অণুর সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে আলাদা হয় এবং প্রতিটি সূত্র তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন DNA অণু তৈরি করে।

1 year ago

জীবের বংশগতি ও বিবর্তন

মানুষ, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং ও ম্যাকাক বানরের খুলির তুলনামূলক ছবি

মাতা-পিতার আকৃতি ও প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যাবলি বংশানুক্রমে সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়। মাতাপিতা থেকে বৈশিষ্ট্য সন্ধানে কীসের মাধ্যমে কীভাবে স্থানান্তরিত হয়, তা আমরা এ অধ্যায়ে জানতে পারব। এ অধ্যায়ে আরও জানতে পারব যে জীবজগতের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি বর্তমান এবং তারা তাদের পূর্বপুরুষ (Ancestor) থেকে উদ্ভুত হয়ে বিবর্তন বা ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ক্রমাগত পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
•বংশগতির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বংশপরম্পরায় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহনকারী উপাদানসমূহ সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব।
•চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় স্থানান্তর ব্যাখ্যা করতে পারব।
•DNA প্রতিরূপ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বংশগতির তথ্য স্থানান্তরে ডিএনএ (DNA)-এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
•DNA টেস্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• লিঙ্গ নির্ধারণে পুরুষের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• জেনেটিক ডিসঅর্ডারের কারণ ও ফলাফল বর্ণনা করতে পারব।
•বিবর্তনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বিবর্তনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ বর্ণনা করতে পারব।
•প্রজাতির টিকে থাকায় বিবর্তনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
• মা-বাবার সাথে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যমূলক বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ণয় করতে পারব।
• আমাদের জীবনে ডিএনএ (DNA) টেস্টের অবদান উপলব্ধি করতে পারব।

Related Question

View More

1 বংশগতিবিদ্যা কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago

জীববিজ্ঞানের যে বিশেষ শাখায় সকল প্রকার জীবের বংশগতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তাই এক কথায় বলা বংশগতিবিদ্যা।

সিফাতের বড় কন্যাটি যেহেতু দেখতে হুবহু বাবার মত সেহেতু তার এ চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি বাবার কাছ থেকেই এসেছে এবং মায়ের চেহারার জন্য দায়ী জিনটি তার 'দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় আছে। অর্থাৎ মায়ের ঐ জিনটি তার দেহে প্রচ্ছন্ন জিন।

আবার, ছোট কন্যাটির চুল ও গায়ের রং বাবার মত। অর্থাৎ চুল ও গায়ের রং এর জন্য দায়ী প্রকট জিনগুলো সে বাবার কাছ থেকে পেয়েছে। কিন্তু তার চেহারা মায়ের মতো হওয়ায় চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি সে মায়ের কাছ থেকে পেয়েছে। মা বাবার অন্যান্য যে সকল বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়নি সেগুলোর জন্য দায়ী জিন তার দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।

সুতরাং সিফাতের সন্তানদের ক্ষেত্রে এরূপ শারীরিক গঠনগত ভিন্নতার কারণ হলো প্রকট জিন। প্রকট জিনই যে কোন জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।

সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ায় সে তার স্ত্রীর উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ, স্ত্রী লোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স কোমোসোমই X ক্রোমোসোম অর্থাৎ XX। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X, অপরটি Y ক্রোমোসোম অর্থাৎ XY। মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ ভালভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কন্যা বা পুত্র সন্তানের জন্ম হবার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই। কারণ মা সবসময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। অপরদিকে পিতা X এবং Y উভয় ধরনের শুক্রাণু উৎপাদন করে। গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হবে তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সন্তানের লিঙ্গ। যেহেতু নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয় তাই পিতার X অথবা Y শুক্রাণুর কোনটি সাফল্যভাবে নিষেক ঘটাবে তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ। যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায় তা হলে জাইগোট হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা। আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে জাইগোট হবে XY এবং সন্তান হবে পুত্র। উপরের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য তার স্ত্রী কোনভাবেই দায়ী নয়, বরং কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য সিফাতই দায়ী। সুতরাং স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হওয়া সিফাতের অনুচিৎ এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

4 লোকাস কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago

ক্রোমোসোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাই লোকাস।

5 অভিযোজন বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Created: 1 year ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago

পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পরিবেশেরও পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই ভিন্ন পরিবেশে জীবগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে টিকে আছে। বিভিন্ন পরিবেশে বা প্রতিকূল পরিবেশে জীবের নিজেকে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকাই হলো অভিযোজন। অভিযোজন জীবের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।

সোহেল টেলিভিশনের একটি চ্যানেলে ব্রাজিলের একটি শহরে পোষা বিড়ালের মেলা দেখেছিল। একই প্রজাতি হওয়া সত্ত্বেও বিড়ালগুলো আকার ও বর্ণে বিভিন্ন রকম ছিল। মেলায় বিড়ালগুলো বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছিল। অবিরাম সংগ্রামের ফলে, নিজেদের রক্ষার জন্যে একই প্রজাতির বিড়াল হওয়া সত্ত্বেও বিবর্তনের কারণে বিড়ালগুলোর আকার-আকৃতি ও বর্ণে ভিন্নতা দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া বিড়ালগুলো যেহেতু বিভিন্ন দেশ বা স্থান থেকে মেলায় আনা হয়েছিল সেহেতু তাদের এ ভিন্নতার উপর পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন স্থানের তাপমাত্রা বা উষ্ণতা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। জীবের তথা বিড়ালগুলোর আকার-আকৃতি বা বর্ণের ভিন্নতায় তাপমাত্রা বা উষ্ণতার প্রভাব থাকতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্নস্থানে আলোর তীব্রতায়ও ভিন্নতা থাকে। আলোর প্রখরতা বা তীব্রতা বিড়ালগুলোর এরূপ বিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিল। শুধু তাই নয় বিভিন্ন স্থানের ভূ-সংস্থানগত প্রভাবও বিড়ালগুলোকে এরকম বিভিন্ন আকার ও বর্ণে বিবর্তিত করতে ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া বিড়ালগুলো যেহেতু পোষা বিড়াল ছিল, সেহেতু তাদের প্রত্যেকের খাবারেও ছিল ভিন্নতা। কারণ সকল বিড়ালের মালিকেরা বিড়ালদের একই রকম খাবার দিত না। আর দৈহিক আকার আকৃতি, অনেকাংশে নির্ভর করে প্রতিদিনের খাবারের উপর।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...